সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের সৌন্দর্যমণ্ডিত পাহাড়ি এলাকা আজ লুটপাটের ফলে প্রায় বিরানভূমি। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের হাতে প্রায় দেড় কোটি ঘনফুটের বেশি সাদা পাথর চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দুদকের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই লুটপাটে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্তত ৪২ জন প্রভাবশালী জড়িত। এর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালান ও অবৈধ উত্তোলনের সময় একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা ও সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনমতের তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয়দের ক্ষোভ এবং ধারাবাহিক প্রতিবাদ এই ঘটনার গভীরে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে। অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ এলাকায় অবৈধ খনন, পাথর পাচার ও আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ লোপাট হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
দুদকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মেলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি চলছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে একে একে মামলা হবে এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ১০২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দেশের প্রভাবশালী দুই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। এতে বড় একটি করপোরেট দুর্নীতির চক্রের নেপথ্য তথ্যও উঠে এসেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই অনুসন্ধান শুধু লুটপাটের দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করবে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।
