ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের ব্যাংক শাখা ইতোমধ্যেই প্রাথমিক অনুসন্ধানের কাজ হাতে নিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৪৬টি হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
অর্থ পাচার ও ব্যাংকিং অনিয়মের এই জটিল নেটওয়ার্কে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে ভুয়া ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, এবং বিদেশি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সংগৃহীত তথ্যও যাচাই করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে বিশদ অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়, কীভাবে চট্টগ্রামভিত্তিক এই ব্যবসায়ী তার প্রভাব ও অবস্থান ব্যবহার করে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও সন্দেহজনক লেনদেনের জাল বিস্তার করেছেন।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্ববহ মনে হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। প্রমাণ মিললে পরবর্তী ধাপে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
একাধিক সূত্রের দাবি, এই অনুসন্ধান দেশের ব্যাংকিং খাতে বহুল আলোচিত আরেকটি বড় অর্থপাচার কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে দুদক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন
যে কেউ যত প্রভাবশালীই হোক, প্রমাণ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ধরনের অনুসন্ধান শুধু একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়—পুরো আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, যদি এই মামলায় সঠিক তদন্ত ও বিচার হয়, তবে তা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দুর্নীতি রোধে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
