১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর রমনায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা থাকলেও, দুপুর সোয়া ২টার দিকে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ এক বার্তায় জানান, অনিবার্য কারণবশত ঘোষিত সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ওই সময় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও জোটগত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জোটের নেতারা আশা করছিলেন, বুধবারের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে বুধবার সকালে জানা যায়, দলগুলোর মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস জোটে থাকবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুপুরে নিজ নিজ দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগছে। যদিও জামায়াত সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই এগোনোর চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, পাঁচ দফা দাবিতে গত সেপ্টেম্বর থেকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি রাজনৈতিক দল রাজপথে সক্রিয় ছিল। পরে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে গত ডিসেম্বরে এনসিপিসহ আরও চারটি দল জোটে যুক্ত হয়। তবে নতুন করে যুক্ত হওয়া দলগুলোকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জোটের ভেতরে টানাপোড়েন দেখা দেয়।
জোটের একটি সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী রাখতে চায় এবং বাকি আসনগুলো অন্য শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।
