নরসিংদীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম আনোয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘চাঁদাবাজদের উদ্দেশে খোলা চিঠি’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন—নরসিংদীর ডিকশনারি থেকে ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি চিরতরে মুছে ফেলতে চান তিনি।
সোমবার দুপুরে পোস্ট করা ওই বার্তায় তিনি লিখেছেন,
প্রিয় চাঁন্দা-ভাইয়েরা, নরসিংদীতে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি করে যাওয়া আপনাদের দুই সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার পর হয়তো আপনারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। আমাকে থামাতে নানা কৌশল গ্রহণ করছেন, হুমকি-ধমকি, লোভ দেখানো—সবই চলছে। কিন্তু ভুলে যাবেন না, আমি সেই ধরনের অফিসার নই।
তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, তার পুরো চাকরি জীবনে কেউ তাকে এক কাপ চা খাওয়াতেও সক্ষম হয়নি। অর্থ বা প্রভাব দিয়ে তাকে দমন করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেন শামীম আনোয়ার। তিনি লেখেন,
টাকা দিয়ে আমাকে কেনা সম্ভব—এমন সন্তানের জন্ম এখনো বাংলাদেশে হয়নি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি অবৈধভাবে এক টাকাও নিয়েছি, তবে আমি নিজেই চাকরি ছেড়ে কামলা হয়ে জীবন কাটিয়ে দেব।
শুধু সতর্কতাই নয়, বার্তায় চাঁদাবাজদের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। বলেন,
আমি চাকরির মায়ায় কাজ করি না। আগামীকাল চাকরি চলে গেলেও আফসোস থাকবে না। রিজিকের মালিক আল্লাহ, আর মৃত্যু ও জীবন তিনিই ঠিক করেন—এই বিশ্বাস নিয়েই আমি দায়িত্ব পালন করি।
তিনি আরও জানান, কেউ যদি তার নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করে, কিংবা তাকে খুশি করতে গিয়ে কারও হাতে টাকা তুলে দেয়, তবে সেই টাকা পুরোপুরি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে। কড়াভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
এই চিঠি ছিল শুধু প্রাথমিক বার্তা। পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে। আশা করি, সেই অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার আগে সংশোধন হবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ারের এই স্ট্যাটাস স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এক শক্ত অবস্থানকেই তুলে ধরেছে। আর তিনি এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন—চাঁদাবাজদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “ইনশাআল্লাহ, নরসিংদীর ডিকশনারি থেকে চাঁদাবাজি শব্দ বিদায় নেবে—এবং বাস্তবে সেই পরিবর্তনের সূচনা এখান থেকেই হবে।”
