বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৬৫ জন চিকিৎসকের চাকরি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম।
গত ২৯ জুন হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক ৬৫ জন চিকিৎসকের একটি তালিকা তৈরি করেন। এর অনুমোদন দেন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিকে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। শুধু ১ জুন হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যারা হাসপাতালটিতে প্রশিক্ষণরত বা অধ্যয়নরত, তারা অগ্রাধিকার পাবেন এবং বয়স সীমা তাদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য হবে।
তবে এর পরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চায়, এই নিয়োগে নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখা হয়েছিল কিনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাবে জানায়, বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং হাসপাতালের বিদ্যমান চাকরি বিধিমালার আলোকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ১০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে হাসপাতাল পরিচালনা বোর্ডের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই নতুনভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এই ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব ফের সামনে নিয়ে এসেছে। নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি যে কতটা গভীর হতে পারে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তার স্পষ্ট প্রমাণ।
