পৃথক ভূমিতে জন্ম, একই সাহসে লেখা আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস — রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

ঢাকায় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলউহাব সাইদানি বলেছেন, আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস দুটি ভিন্ন ভূখণ্ডে রচিত হলেও, উভয় জাতির সংগ্রাম একই সাহস, ত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনায় লেখা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় আলজেরিয়া দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দিনটি ছিল ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর প্যারিসে আলজেরীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের ৬৪তম বার্ষিকী স্মরণে পালিত ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ডে। ২০২১ সাল থেকে আলজেরিয়া দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করছে।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন,

এই দিনটি কেবল শোক প্রকাশের নয়—এটি সাহসকে সম্মান জানানোর, সত্যকে পুনরুদ্ধার করার এবং মানবিকতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

তিনি স্মরণ করেন, প্যারিসের সেই ঠান্ডা রাতে ৩০ হাজারের বেশি আলজেরীয় নারী, পুরুষ ও শিশুরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমেছিল। তাঁদের হাতে ছিল না অস্ত্র, ছিল কেবল ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তারা ফ্রান্সে মুসলমানদের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক কারফিউর প্রতিবাদ জানাতে এবং আলজেরিয়ার স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করতে রাজপথে নেমেছিল।কিন্তু সেই আন্দোলনের জবাবে আসে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা।

শান্তির জবাবে তারা পেয়েছিল গুলির শব্দ, মানবতার জবাবে ঘৃণার তাণ্ডব,

বলেন রাষ্ট্রদূত। অনেক বিক্ষোভকারীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়, অনেককে গুলি করা হয় কিংবা সেন নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন,

তাদের কণ্ঠরোধ করা গেলেও তাদের সাহসকে থামানো যায়নি—রাতের অন্ধকারেই জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার আলোকশিখা।

সাইদানি এই ঘটনাকে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাসে এক নৃশংস অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে,

১৭ অক্টোবরের সেই রক্তপাত আলজেরীয় জাতিকে ভীত করেনি, বরং স্বাধীনতার পথে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। এটি ছিল ভয়ের ওপর সাহসের বিজয়, দমননীতির বিরুদ্ধে মানবতার উচ্চারণ।

তিনি আরও বলেন,

বিশ্ব হয়তো তখন দেরিতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস মনে রেখেছে। সেন নদী হয়তো তাঁদের দেহ বহন করেছিল, কিন্তু তাঁদের গল্প নয়। তাঁদের সাহস আজও বয়ে চলছে আলজেরীয় জাতির হৃদয়ে, মানবতার বিবেকের ভেতরে।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন,

এই স্মৃতির দিন আলজেরিয়ার মতোই বাংলাদেশের মানুষকেও নাড়া দেয়। আমরাও জানি স্বাধীনতার মূল্য কী, ত্যাগের ভার কেমন, আর শোকের গভীরতা কতটা। আমাদের ইতিহাস আলাদা ভূখণ্ডে রচিত হলেও সাহসের কালি এক।

রাষ্ট্রদূতের মতে, আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাসের এই অভিন্ন সাহসিকতার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার এবং স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই দুই জাতিকে এক সূত্রে গেঁথে রেখেছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *