ঈদ সামনে রেখে মে মাসে রেমিট্যান্স এলো সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

 

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে চলছে জোর প্রস্তুতি। কোরবানির পশু কেনা, নতুন পোশাক ও উপহারের মতো পারিবারিক ব্যয় সামলাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি—নির্দিষ্টভাবে ৩৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে)।এটি দেশের ইতিহাসে এক মাসে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে, ঈদুল ফিতরের আগে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

গত বছরের মে মাসে এসেছিল ২২৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ঈদের আগমন যেমন বড় কারণ, তেমনি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে পরিবারের বাড়তি প্রয়োজন মেটানোর তাগিদও আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে ঘিরে গরু-ছাগল কেনা, জামাকাপড় ও উপহার কেনাসহ অন্যান্য ব্যয়ে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠান বলেই মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স শুধুমাত্র পরিবারের আয় নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় সহায়ক শক্তি। ঈদের মতো উৎসব ঘিরে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়ে গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়, পণ্যের চাহিদা বাড়ে এবং সার্বিকভাবে বাজারে গতি আসে।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে প্রণোদনা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সহজ হওয়ায় অনেকেই হুন্ডির মতো অবৈধ পথ পরিহার করে ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন।চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৩৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

মাসওয়ারি হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে এসেছে ১৯১ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি এবং সর্বশেষ মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে সহায়তা করছে। ঈদুল আজহা সামনে থাকায় এই ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *