সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল সদর কারাগারে মৃত্যুর ১৮ দিন পর দেশে ফিরলেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবদুল হামিদ। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কফিনবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ আনা হয় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দরে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চোখের জলে ভেসে ওঠে প্রবাসজীবনের বেদনা আর হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের স্মৃতি।
আবদুল হামিদ ছিলেন ‘জুলাই আন্দোলন’-এর অন্যতম অংশগ্রহণকারী। গত ১৯ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিক্ষোভের সময় ২ শতাধিক প্রবাসীকে আটক করা হয়। তাদেরই একজন ছিলেন হামিদ। প্রায় দুই মাস বন্দিত্বের পর ২২ সেপ্টেম্বর আল সদর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে রাউজানের নোয়াপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার জানায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরদেহ পাওয়ায় স্বস্তি মিললেও এখন তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া—ন্যায়বিচার ও সরকারি সহায়তা।
হামিদের স্ত্রী জানান,
আমার স্বামী দেশের কথা ভেবে রাস্তায় নেমেছিলেন। এখন আমরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে আছি। সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক হামিদ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পরিবারকে ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশা অপূর্ণই রয়ে গেল। বিকেল ৩টায় তার গ্রামের বাড়ি রাউজানের নোয়াপাড়ায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিন লাখ টাকার সহায়তা দেয়া হবে।
এদিকে, আমিরাতের বিভিন্ন কারাগারে এখনো আটক রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের আরও ২৪ জন বাংলাদেশি। তাদের মুক্তির দাবিতে স্বজনরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আটক শহিদুল আমিনের স্ত্রী তানিয়া আমিন বলেন,
দুই ছেলে নিয়ে বাঁচা কঠিন হয়ে গেছে। কেউ আমাদের খবর নেয় না।
জুলাই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২২৫ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২০১ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও বাকিদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।
