মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক দশক আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের মোহাম্মদ কবির। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর আগামী ৩ জানুয়ারি ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এই বাংলাদেশি কর্মী।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের উলু তিরাম এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ কবির নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কইলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (১৭ই ডিসেম্বর) সকালে মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছাতেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কান্না আর অপেক্ষার মধ্যে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।

নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম জানান, প্রায় ৯ বছর ধরে কবির মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। টানা সাত বছর কাজ করার পর ২০২৪ সালে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ছুটি শেষে ওই বছরের এপ্রিলে আবারও কর্মস্থলে ফেরেন। পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছিলেন—এবার জানুয়ারিতেই ফিরবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না।

নিহতের একমাত্র সন্তান সোহাগ জানান, তার বাবা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখানে রাতে লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হানা দেয়। বাধা দিতে গেলে তারা কবিরের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে। বুধবার সকালে স্থানীয়রা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বাবার সঙ্গে শেষ যোগাযোগের স্মৃতি তুলে ধরে সোহাগ বলেন,

গত রাত ১টার দিকে আব্বা ডিউটির ছবি পাঠিয়েছিলেন। তারপর আর কোনো কথা হয়নি। সকালে অফিস থেকে ফোন করে জানায়—আব্বা আর নেই।

নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তারা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

প্রবাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা হাজারো শ্রমিকের মতো মোহাম্মদ কবিরও স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিবারকে একটু ভালো রাখার। সেই স্বপ্নের পথেই থামল তাঁর জীবন—ফিরে এল কেবল শোক আর অনিশ্চয়তা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *