যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (FT) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (২৩,৪০০ কোটি ডলার বা ২৮ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা) বাংলাদেশ থেকে লুট হয়েছে।
তথ্যচিত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিলিয়ন ডলার যেন প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি’ (Bangladesh’s Missing Billions: Stolen in Plain Sight)।
তথ্যচিত্রে মূলত দুর্নীতি ও অর্থ পাচার, এবং সেই অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে FT জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তথ্যচিত্রের শুরুতে শেখ হাসিনার পতনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এর পর বিভিন্ন অধ্যায়ে দেখানো হয়েছে কীভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে, এবং তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কোথায় পৌঁছেছে।
- তথ্যচিত্রে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- হোয়াইটচ্যাপেল ও লন্ডনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মকাণ্ড এবং পাচার হওয়া অর্থের আস্তানার খোঁজ
- টিউলিপ সিদ্দিক ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পত্তি বিষয়ক তদন্ত
- ব্যাংক খাত দখলের ঘটনা এবং অর্থ পাচারের পথ
- অন্তর্বর্তী সরকারের আবির্ভাব ও এস আলমের সঙ্গে ব্যাংকিং সংকটের যোগসূত্র
- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভাবনা
- লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা
তথ্যচিত্রে দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোপ্রধান জন রিড, অ্যাগ্রিকালচার ও কমোডিটি করেসপনডেন্ট সুজ্যানা স্যাভিজ, স্পটলাইট অন করাপশনের ডেপুটি ডিরেক্টর হেলেন টেলর এবং ওয়েস্ট মিনস্টার লবি দলের রিপোর্টার রাফে উদ্দিন সহ বিভিন্ন বিশ্লেষক ও প্রতিবেদকরা অংশ নিয়েছেন।
শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাফিয়া রেহনুমা হৃদি বলেন,
আমাদের ভয়, আমরা হয়তো আমাদের শহীদদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারব না—এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
তথ্যচিত্রটি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
তথ্যচিত্রটি স্পষ্ট করে দেখিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার এই চিত্র ভবিষ্যতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।
