ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

লিবিয়া থেকে অবৈধ তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন প্যারিসের একটি ফৌজদারি আদালত। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণার জন্য সারকোজির ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা লিবিয়া থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে এই তহবিল আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ মামলায় ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দণ্ডিত হলেন সাবেক এই ফরাসি নেতা।

শাস্তির মাত্রা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কঠোর হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সারকোজি অবশ্য আদালতের রায় মেনে নেননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে রায়কে “কলঙ্কজনক” আখ্যা দিয়েছেন। আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,

আজ যা ঘটেছে তা আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি নির্দোষ, এবং আমি এমন কিছুর জন্য ক্ষমা চাইব না, যা আমি করিনি।

২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সারকোজি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আপিল চলমান থাকলেও তাকে কারাগারে যেতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসে সাবেক কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের এভাবে সাজা পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি কেবল সারকোজির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকেই সংকটে ফেলেনি, বরং ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি এক নতুন প্রশ্নও তুলেছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *