দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি পূর্ব তিমুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক তরুণ-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। সংসদ সদস্যদের জন্য আজীবন পেনশন ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনা ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে জেন-জি প্রজন্ম।
রাজধানী দিলিতে সংসদ ভবনের সামনে টানা তিন দিন ধরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের দাবি ছিল স্পষ্ট—জনগণের করের টাকায় এমপিদের জন্য আজীবন সুবিধা নয়, বরং সেই অর্থ যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ব্যয় হয়।
পূর্ব তিমুর, যেটি তিমুর-লেস্তে নামেও পরিচিত, ১৩ লাখ জনসংখ্যার একটি ছোট দেশ। স্বাধীনতা অর্জনের দুই দশক পরও দেশটি তেল ও গ্যাসের ক্রমহ্রাসমান মজুদের ওপর নির্ভরশীল। এমন বাস্তবতায় এমপিদের জন্য ৬৫টি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার পরিকল্পনা এবং পেনশন সুবিধা তরুণদের কাছে ছিল অবিচারের প্রতীক।
বিক্ষোভের মুখে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির আইনপ্রণেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন—পেনশন ও গাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগে কিছু এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
এই আন্দোলন শুধু পূর্ব তিমুরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ায়ও আগস্টের শেষ দিক থেকে এমপিদের ভাতা এবং পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জেন-জি প্রজন্মের এই প্রতিবাদ প্রমাণ করেছে—তরুণদের কণ্ঠরোধ করা যায় না। তারা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, রাস্তায় নেমে বাস্তব পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার। পূর্ব তিমুরের সংসদ ভবনের সামনে তাদের পদচারণা ছিল এক নতুন রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা।
এই প্রতিবাদ ছিল এক তরুণ রাষ্ট্রের তরুণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা—ক্ষমতা নয়, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াও।
