ইরানে হামলা হলে শত্রুপক্ষকে ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ উপহার দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে সর্বশক্তি দিয়ে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত।
ইরানে চলমান সহিংস বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এই কঠোর অবস্থান জানাল তেহরান।
ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, এক নিরাপত্তা বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ বলেন,
এই হুমকিগুলো যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে দেশকে রক্ষা করব। আমাদের প্রতিরোধ শত্রুপক্ষের জন্য হবে যন্ত্রণাদায়ক এবং তারা এমন চমকের মুখোমুখি হবে, যা তারা কল্পনাও করেনি।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা দেবে, তারাও তেহরানের কাছে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নাসিরজাদেহ দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, ইরান তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা আগের চেয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে সরাসরি হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের নিশানায় আসবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, একই সঙ্গে এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ভূমিকা রাখার অনুরোধও জানিয়েছে তেহরান।
ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠা এই হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরানকে ঘিরে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
