ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন জাতিসংঘ কর্মীকে আটক করেছে হুথি বিদ্রোহী কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা দ্রুত পরিস্থিতি সমাধান ও আটক কর্মীদের মুক্তির জন্য হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনে আবাসিক সমন্বয়কারীর মুখপাত্র জ্যাঁ আলাম বলেন, সানার হাদা জেলায় অবস্থিত কার্যালয়ে রোববার হুথি বাহিনী আকস্মিক অভিযান চালায়। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন ইয়েমেনি নাগরিক এবং ১৫ জন আন্তর্জাতিক কর্মী রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, অভিযানের সময় হুথি বাহিনী কার্যালয়ের কম্পিউটার, মোবাইল, সার্ভারসহ যোগাযোগ সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা রয়েছেন—যেমন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP), ইউনিসেফ, এবং মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA)।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৫০ জনেরও বেশি জাতিসংঘ কর্মী আটক অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে হুথি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এসব জাতিসংঘ ও বিদেশি এনজিও কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে—যা জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
এ ঘটনার পর জাতিসংঘ ইয়েমেনের সা’দা প্রদেশে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারীকে সানা থেকে এডেন শহরে স্থানান্তরিত করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার কার্যকর রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন জাতিসংঘ কর্মী এবং ২৩ জন আন্তর্জাতিক সংস্থার বর্তমান ও সাবেক সদস্যকে হুথি বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে দশ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধ দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দরিদ্র রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেন এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে থাকা দেশ, যেখানে কোটি কোটি মানুষ টিকে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
