বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ ফাঁসি: শেষ বিদায়ের জন্য ১০ মিনিট সময়

2 Min Read

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়া তরুণ এরফান সোলতানিকে পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর জন্য দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১০ মিনিট। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে গত ৮ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভ চলাকালে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর নিরাপত্তা বাহিনী তার পরিবারকে জানায়, ফাঁসির আগে এটিই হবে তাদের শেষ সাক্ষাৎ। এরপর খুব অল্প সময়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তিনি।

ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এরফান সোলতানিকেই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা কিংবা ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, এরফানের এক আত্মীয়—যিনি পেশায় আইনজীবী—মামলাটি নিতে চাইলেও নিরাপত্তা বাহিনী তাকে বাধা দেয় এবং হুমকি দেয়। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি পর্যালোচনার মতো কোনো নথিই নেই এবং বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়াদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

এছাড়া মামলাটি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বললে বা তথ্য প্রকাশ করলে সোলতানির পরিবারকেও গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরফান সোলতানির বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’র অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত থাকায় তার মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত পূর্ণ তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, পোশাক শিল্পে কর্মরত এরফান সোলতানি গত সপ্তাহে কারাজ শহরে হাজারো মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নেমেছিলেন। দেশটির নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই ওই বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইরানের ৩১টি প্রদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা কয়েক শ থেকে দুই হাজার ছাড়াতে পারে বলেও বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *