আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওদিঙ্গা (৮০) ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ই অক্টোবর) সকালে হাঁটতে বের হয়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওদিঙ্গা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল, তবে পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা এতদিন তা অস্বীকার করে আসছিলেন।
রাইলা ওদিঙ্গা কেনিয়ার রাজনীতিতে ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। দশকের পর দশক তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কারাভোগ করেছেন, আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। তার মৃত্যুর খবরে কেনিয়া জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজধানী নাইরোবি ও পশ্চিমাঞ্চলে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, ব্যানার-পোস্টার হাতে প্রিয় নেতাকে স্মরণ করতে।
কেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা বলেছেন,
রাইলা ওদিঙ্গার মৃত্যু আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করল। তিনি ছিলেন সংগ্রামের আর ন্যায়ের প্রতীক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন,
রাইলা ওদিঙ্গা শুধু আফ্রিকার এক রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি ভারতেরও এক অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তার প্রজ্ঞা, সাহস ও মানবিকতা আমাদের মনে অম্লান হয়ে থাকবে।
বিশ্বজুড়ে নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিচ্ছেন। আফ্রিকান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
ওদিঙ্গার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মরদেহটি শিগগিরই কেনিয়ায় নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাইলা ওদিঙ্গা ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জনগণের রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করে গেছেন। তার মৃত্যুতে আফ্রিকা হারালো এক কিংবদন্তি রাজনীতিককে—আর কেনিয়াবাসী হারালো তাদের “বাবা রাইলা”-কে।
