রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নিহত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ২ লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ই অক্টোবর) সকালে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগের দিন, মঙ্গলবার (১৪ই অক্টোবর) দুপুরে রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় কসমিক ফার্মা নামের একটি রাসায়নিক গুদাম ও পাশের পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে চারপাশের ভবনগুলোও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার সকালেও ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। কেমিক্যাল স্যুট পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই সদস্য ভিতরে প্রবেশ করেন এবং জানান, গুদামে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ একত্রে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস তৈরি করছে। এ কারণে আশেপাশের এলাকায় শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
এদিকে একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ কয়েকজন শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনের কোনো খোঁজের আশায়। কেউ স্তব্ধ, কেউবা ভেঙে পড়েছেন কান্নায়।
শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে শোকসভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি,
এ ধরনের রাসায়নিক গুদাম আবাসিক এলাকায় রাখার অনুমতি দেওয়াই ছিল বড় ভুল। এখন এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মিরপুরের এই অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে শহরের অনিয়ন্ত্রিত শিল্প স্থাপনের ঝুঁকি ও শ্রমিক নিরাপত্তার করুণ বাস্তবতা।
