নিষেধাজ্ঞা শেষ, নতুন আশায় নদীতে ফিরছেন জেলেরা

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

মা ইলিশ রক্ষায় আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শনিবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠতেই দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর হাজারো জেলে আবারও ইলিশ শিকারে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পদ্মা ও মেঘনা নদীর দুই তীরজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে—নৌকা-ট্রলার মেরামত, জাল গুছানো আর নদীতে ফেরার উত্তেজনায়।

প্রতি বছরের মতো এবারও ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই সময়ে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত দুই শতাধিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়। তবে অনেক জেলে অভিযোগ করেছেন, তারা সরকারের বরাদ্দ করা চাল পাননি।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নদীপাড়ে এখন উৎসবের আমেজ। পদ্মা-মেঘনার ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত নদীতীরজুড়ে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে আবারও জাল ফেলতে প্রস্তুত তারা। তবে ধারদেনা ও ক্ষতির চাপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শঙ্কাও রয়েছে তাদের মনে।

চাঁদপুরের জেলেরা জানান, পদ্মা ও মেঘনা তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। আগের মতো এখন আর তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না, তবে এবারের মৌসুমে ভালো ধরা পড়লে আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের অভয়াশ্রম কর্মসূচি আগের বছরের তুলনায় অনেক সফল হয়েছে। সেনা ও নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা টানা ২২ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন,

ডিম ছাড়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাটকা নিধন বন্ধ রাখা। এটি সংরক্ষণ করতে পারলে ইলিশের প্রাচুর্য বজায় থাকবে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী অঞ্চলের জেলেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ইলিশ পেলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তবে তারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি ভিজিএফ চাল বণ্টনে অনিয়ম হয়েছে এবং প্রকৃত জেলেদের অনেকেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বছর ইলিশ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে বলেই তারা মনে করছেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এক লাখেরও বেশি জেলে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৯ হাজার জেলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল পেয়েছেন।

২২ দিনের এই বিরতির পর নতুন আশায়, নতুন প্রত্যাশায় আবারও নদীতে ফিরতে প্রস্তুত বাংলাদেশের জেলেরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *