ফেনী জেলায় পৃথক তিনটি স্থানে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের মধ্যে একজন নারী, একজন শিশু ও এক বৃদ্ধ রয়েছেন। পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
জেলার সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের হকদি গ্রামে বুধবার (২৯শে অক্টোবর) সকালে আয়েশা আক্তার জুঁথি (২৫) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জুঁথির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আয়েশা আক্তার বিবাহিত ছিলেন এবং পারিবারিক কিছু বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে শোনা গেছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (২৮শে অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় ট্রলিচাপায় নিহত হয় ১০ বছরের শিশু তানভীর। সে লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় এক মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। প্রবাসী মামার সঙ্গে ছুটিতে বাড়ি এসে তানভীর মাছিমপুর এলাকায় ঘুরতে বের হলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর ট্রলিচালক পালিয়ে যায়। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, বুধবার (২৮শে অক্টোবর) সকালে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ষাটোর্ধ্ব এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ মরদেহটি মর্গে পাঠিয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।
তিনটি মৃত্যুই রহস্যজনক বলে মনে করছে স্থানীয়রা। কেউ কেউ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে গেছে, যা প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি।
পুলিশ সূত্র জানায়, তিনটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রত্যেক ঘটনার পেছনের সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
