ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেছে দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনি–এর উত্তরসূরি হিসেবে গত রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ইরানের ক্ষমতায় থাকা আলী খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দ্রুত মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় চালানো এক হামলায় মোজতবা খামেনির পায়ে আঘাত লাগে। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় চিকিৎসাধীন আছেন বা তার শারীরিক অবস্থা কী—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে বা টেলিভিশনে ভাষণ দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলায় পাওয়া শারীরিক আঘাত তার অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।
তেহরানের বিভিন্ন স্থানে তার ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার দেখা গেলেও নতুন নেতার জনসমক্ষে না আসা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতার আহত হওয়ার খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে খামেনি পরিবারের ওপর ধারাবাহিক আঘাত ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোয় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঘাত গুরুতর হলে দেশ পরিচালনায় মোজতবা খামেনির সক্ষমতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
