যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনার পর হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিয়েছে, তারা কঠোরভাবে বামপন্থি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দমনে নামবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি ভিন্নমত দমনের একটি অজুহাতে পরিণত হতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার কার্কের নিজস্ব পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন,
চার্লির হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে সংগঠিত প্রচারণা রয়েছে, আমরা সেই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করব। এটা ঘটবেই, এবং তা ঘটবে চার্লির নামে।
যদিও এখনো হত্যার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়নি, তবুও ডানপন্থি রাজনীতিকরা সরাসরি বামপন্থি মতাদর্শকে দায়ী করছেন। ভ্যান্স বলেন, প্রশাসন এবার সেই এনজিও নেটওয়ার্ককে টার্গেট করবে যারা সহিংসতা উসকে দেয় ও সহায়তা করে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হামলাকারী একাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
এরই মধ্যে ইউটার ২২ বছর বয়সী টাইলার রবিনসনকে অভিযুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গভর্নর স্পেনসার কক্স জানিয়েছেন, রবিনসন বামপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে তিনি অনীহা প্রকাশ করেছেন।
কার্ক হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই প্রশাসনের এমন রাজনৈতিক অবস্থান বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন এ সুযোগে বিরোধী মত দমনের পথে হাঁটতে পারে।
রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের সদস্যই এর শিকার হয়েছেন। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের ওপর দুই দফা হামলা হয়। এ বছরের জুনে মিনেসোটার এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও তার স্বামীকে হত্যা করা হয়। এর আগের মাসে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর বাড়িতে হামলা হয়।
সর্বশেষ কার্ককে গত বুধবার ইউটার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রভাবশালী ডানপন্থি ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্ক ছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ভ্যান্স তাকে স্মরণ করে বলেন,
তিনি ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে মেধাবী রাজনৈতিক সংগঠক। আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় কৃতিত্ব তার।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন ও সহজে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাপ্যতাকে বিশ্লেষকরা এ ধরনের সহিংসতার জন্য দায়ী করছেন। চার্লি কার্ক হত্যার পর হোয়াইট হাউসের নতুন অবস্থান দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
