লেবাননের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের একটি পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করেছে। শুক্রবার রাজধানী বৈরুতে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনাপ্রধান রোদলফ হাইকাল এ পরিকল্পনা পেশ করেন। তবে পরিকল্পনায় কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং সেনাবাহিনী তাদের সীমিত সামর্থ্যের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে।
তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাপ্রধান জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে “অতিরিক্ত সময় ও প্রচেষ্টা” লাগতে পারে এবং এর বিস্তারিত গোপন রাখা হবে। মন্ত্রিসভা পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ঘোষণা দেয়নি।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান বৈঠকে প্রবেশ করার পরপরই হিজবুল্লাহ ও এর মিত্র আমল মুভমেন্টের পাঁচজন শিয়া মন্ত্রী বৈঠক বর্জন করেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করবে না। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, এটি এ নিয়ে তৃতীয়বার যখন শিয়া মন্ত্রীরা নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে মন্ত্রিসভা বৈঠক বর্জন করলেন।
হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ হায়দার বলেন,
শিয়া মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে নেওয়া যে কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল বলে গণ্য হবে। এটি লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা বণ্টন ব্যবস্থার পরিপন্থী।
লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর অস্ত্র একটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে গত বছরের ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠক সেই সংকটকে নতুন মাত্রা দিল বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
