গাজা সিটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত, জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রও ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রাণকেন্দ্র গাজা সিটি আবারও রক্তাক্ত হয়েছে। টানা বিমান হামলায় একদিনে শুধু এই শহরেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন ফিলিস্তিনি। পুরো গাজা জুড়ে একই দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৬২ জন। হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, আর নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।

শুধু আবাসিক ভবন নয়, এবার ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রও। যুদ্ধের ভয়াবহতায় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া এখন ফিলিস্তিনিদের কাছে এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত গুঁড়িয়ে দেওয়ায় হাজারো মানুষ রাস্তায়, ধ্বংসস্তূপে কিংবা অস্থায়ী জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন “অমানবিক” বলে। তিনি জানান, অবরোধ আর লাগাতার হামলার কারণে গাজা সিটির বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যেন শহর দখলের লক্ষ্যেই নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। প্রাণভয়ে মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার জন্য আকাশ থেকে লিফলেটও ফেলা হচ্ছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদের ভাষায়,

প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপরই কোনো না কোনো আবাসিক ভবন বা জনসেবামূলক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, এই হামলার ধরন প্রমাণ করে ইসরায়েলি বাহিনী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে ভয়াবহ চাপে ফেলছে।

এদিকে, সর্বশেষ হামলার পর গাজার পশ্চিমাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় জমেছে। তারা খাবার, পানি ও চিকিৎসা সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। শহরজুড়ে আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে মৃতদেহ উদ্ধার করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপ আজ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—যখন জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রই নিরাপদ থাকে না, তখন ফিলিস্তিনিদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? প্রতিটি বোমা শুধু একটি ভবন নয়, ভেঙে দিচ্ছে বহু পরিবারের আশা ও ভবিষ্যৎ।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *