ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও রোববার (৩ আগস্ট) সকালে শুরু হওয়া এই মিছিলে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের হিসাবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল অন্তত এক লাখ, তবে আয়োজকদের দাবি, ব্রিজজুড়ে উপস্থিত ছিলেন কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা একযোগে স্লোগান দেন—“আমরা সবাই ফিলিস্তিনি”, “এখনই যুদ্ধবিরতি চাই” এবং “ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো”। মিছিলে যোগ দেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জও। যদিও তিনি জনতার সামনে কোনো বক্তব্য দেননি কিংবা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বব কার।
মিছিল শুরুর আগে বক্তব্য দেন সিনেটর মেহরিন ফারুকি, আদিবাসী অভিনেত্রী মেইন ওয়াইট এবং সাবেক সকারু তারকা ক্রেইগ ফস্টার। মেহরিন ফারুকি একে “ইতিহাস সৃষ্টি করা মিছিল” আখ্যা দিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি বাহিনী গাজায় স্পষ্ট গণহত্যা চালাচ্ছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও কানাডা শর্তসাপেক্ষ স্বীকৃতির কথা বলেছে। অস্ট্রেলিয়া এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও সম্প্রতি জাতিসংঘে ১৪ দেশের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, এটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এদিকে গাজায় ৬৬৬তম দিনের মতো বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। রোববারের হামলায় আরও ৪৪ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ২২ জনই ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৪৩০ জনে।
