চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জারি হয়েছে আইনি প্রশ্ন। হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, কেন এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এবং কেন এনসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হবে না।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠানের—নৌপরিবহন সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী—জবাব চাওয়া হয়েছে।
এই রিটটি দায়ের করেছেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি। তার দাবি, স্থানীয় অপারেটরদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া পিপিপি আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দলিলপত্র যুক্ত করে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনার জন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়ার আগে স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে তা আইনের বাইরে চলে যাবে এবং দেশি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে এবং আদালতের পরবর্তী আদেশে। এই রুল শুধু একটি বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন নয়, এটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও বিদেশি নির্ভরতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক উত্থাপন করেছে।
