মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন সাগরের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত–১ এর বিচারক মো. আশীকুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে হাজিরের সময় সাজ্জাতকে বহন করা প্রিজনভ্যান ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর থেকে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সাগরের ফাঁসি দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে এবং প্রিজনভ্যানে ডিম ও ঝাড়ু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাসদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ সজল মোল্লা হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হালিম হোসেন বলেন,
সাগর সজলকে গুলি করেছিলেন—এ সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাত হোসেন সাগর মুন্সীগঞ্জ শহর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হয়ে দেশে ফেরত আসেন। ঢাকায় গোপনে বসবাস শুরু করলে গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন নজরদারি করে তাকে বুধবার রাতে ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম জানান, সাগরের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর বলেন,
৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় সাগরসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় তিনজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। সাগরই গুলিবর্ষণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা মুন্সীগঞ্জে সমাবেশ করলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে গুলিতে নিহত হন সজল মোল্লা, রিয়াজুল ফরাজী ও ডিপজল। এই তিন হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামি সাজ্জাত হোসেন সাগর বর্তমানে দুদিনের আলোচিত বন্দি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাগরের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড আদেশ সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করেছে।
