শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রোববার (১২ অক্টোবর) এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে তৃতীয় দিনের মতো জেরা করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি সাক্ষীর দেওয়া জুলাই গণহত্যা সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন,

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধ্য হয়েই ব্যবস্থা নিয়েছিল।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলা হয়, অভিযুক্তরা নির্দেশ না দিলে এমন হত্যাযজ্ঞ সম্ভব হতো না।

সব মিলিয়ে ২৮ কার্যদিবসে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহ ও মামুনুর রশীদসহ আরও অনেকে।

অভিযুক্ত চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নিজ দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, নির্বিচারে গুলি ও আগুনে পোড়ানোর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, কামালসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পাঁচটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। মামলার অভিযোগপত্রের মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮,৭৪৭। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণ ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদ তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।

এ মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেন, যা পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হয়।

আগামী রোববার থেকে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এই আলোচিত মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *