রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে আপিলের রায় সোমবার (১১ আগস্ট) ঘোষণার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন সন্ধ্যায় পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ইরানি ক্যাম্পে একটি গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমন নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ নিয়ে ইশতিয়াক ও তার ভাই ইমতিয়াজের সঙ্গে সুমনের কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর সুমনের ফোনে পুলিশ এসে দুই ভাইকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে গুরুতর আহত ইশতিয়াককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১৪ সালের ৭ আগস্ট নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন মামলা দায়ের করেন। এটি ছিল ২০১৩ সালে প্রণীত নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের প্রথম মামলা। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে তৎকালীন পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাশেদুল হাসান, এএসআই কামরুজ্জামান ও পুলিশের সোর্স সুমন ও রাসেল রয়েছেন।
বিচার শেষে ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এসআই জাহিদুর, এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন। সোর্স সুমন ও রাসেলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর কামরুজ্জামান পলাতক থাকেন এবং সুমন সাজা ভোগ করে মুক্তি পান।
২০২০ সালে দণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদুর, রাশেদুল ও রাসেল হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০২১ সালে আপিলগুলো শুনানির জন্য গৃহীত হয় এবং চলতি বছরের ৯ জুলাই একযোগে শুনানি শুরু হয়। রায়ের জন্য নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তিত হয়ে সোমবার নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
