জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি নিয়ে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবারের (৩১ জুলাই) আলোচনায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা দেখা দিলে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সূত্র মতে, উচ্চকক্ষের জন্য ১০০ আসনের প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা নির্বাচিত হবে পিআর পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনে যে দল যত ভোট পাবে, সে অনুযায়ী উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিএনপি ও তাদের সমমনা জোট, যারা মনে করছে—উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনীত হওয়া উচিত নির্বাচিত আসনের ভিত্তিতে, শুধুমাত্র ভোটের অনুপাতে নয়।
বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দেওয়া যাবে না। তার বক্তব্যের পর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন মন্তব্য করেন, “সংখ্যানুপাতিক ভোটে নির্বাচিত উচ্চকক্ষও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।”
এ সময় জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২–দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা মাইক ছাড়াই জাবেদ রাসিনকে উদ্দেশ করে বলেন, “২০২৩ সালে যখন আন্দোলন হচ্ছিল, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?” এই মন্তব্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাসিন–হুদা তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ তখন সতর্ক করে বলেন,
কে কেন এসেছেন সেই প্রশ্ন তুললে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হবে। রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সবার জন্য বিব্রতকর হবে।” পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সালাহউদ্দিন আহমদ এহসানুল হুদাকে দুঃখপ্রকাশ করতে অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে হুদা বলেন, “কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকে, আমি দুঃখিত।
সন্ধ্যায় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ হবে ১০০ আসনের। এসব আসন পিআর পদ্ধতিতে বণ্টিত হবে, অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনে দলগুলো যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই অনুপাতে তারা উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি পাঠাবে।
তবে এই সিদ্ধান্তে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা লিখিত আপত্তি জানিয়ে বলেছে, ভোটের ভিত্তিতে নয়, আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা উচিত। অন্যদিকে সিপিবি ও বাসদও উচ্চকক্ষের ধারণার বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।
