জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল সম্মত হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অভূতপূর্ব ঐকমত্য উঠে আসে, যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পথে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং নারী প্রতিনিধিত্ব—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
সভাপক্ষ থেকে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসন এখনকার ৫০ থেকে এক লাফে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ১০০ করার বিষয়েই দলগুলো একমত হয়েছে। বিষয়টি আগামীকালের মধ্যে একটি যৌথ খসড়া প্রস্তাবে স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় নারী নেতৃত্বকে সংসদীয় রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি সমতাভিত্তিক প্রতিনিধি কাঠামোর ভিত্তি তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া বৈঠকে মহাহিসাব নিরীক্ষক পদে সংস্কার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে বেশিরভাগ দলের মৌখিক সমর্থন মিলেছে। আর ন্যায়পাল পদের কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সমাধান খুঁজতে আগ্রহী অধিকাংশ দল।
উল্লেখ্য, আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলোকে একটি খসড়া জাতীয় সনদ প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ধরনের আপত্তি পাওয়া যায়নি। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই সেই খসড়া পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের সর্বদলীয় আলোচনা এবং কার্যকর ঐকমত্য দেশের গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন রাজনৈতিক বিভক্তি ও অনাস্থা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।
এখন দেখার বিষয়, এই নারীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে পৌঁছায়। তবে একমত হওয়াটাই যে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—তা আজকের এই ঐক্যমতের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।
