শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর তরুণ রাজনীতিক মো. রকিবুল ইসলাম সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এখনো নালিতাবাড়ী পৌর যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক পদে বহাল আছেন—যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্বাক্ষরিত ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরই রকিবুলের নাম সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিচপুরান ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে রকিবুল দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি মরিচপুরান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও তিনি প্রার্থী ছিলেন।
তবে দলীয় নিষ্ক্রিয়তা ও উপেক্ষার অভিযোগ তুলে যুবলীগ থেকে সরে আসার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। রকিবুল বলেন,
যুবলীগে আমাকে কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। সংগঠনে থেকে কোনো কাজ করার সুযোগও পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যক্রম না থাকায় এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।
এদিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া জানান,
রকিবুল ইসলাম যুবলীগের পদে আছেন—এ তথ্য আমরা জানতাম না। তিনি এনসিপির কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় পদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রকিবুলের এই দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, এটি তরুণ রাজনীতিকদের নতুন প্ল্যাটফর্ম খোঁজার উদাহরণ, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় সংগঠনগুলো তরুণদের আকর্ষণ হারাচ্ছে, আর সেই শূন্যতা কাজে লাগাচ্ছে নতুন উদীয়মান রাজনৈতিক দলগুলো।
