রিজভীর কণ্ঠে সরকারের সমালোচনা ও তারেক রহমান রক্ষার হুঁশিয়ারি

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশে সংকট যতই থাকুক না কেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমরা সমর্থন জানিয়েছি, কারণ এই সরকার শেখ হাসিনার মতো বিদেশে অর্থ পাচার করবে না।’

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জুলাই–আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত কুড়িগ্রামের ১০ শহীদ পরিবারের প্রতি বিএনপির সহমর্মিতা প্রকাশ করে প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

রিজভী বলেন, “জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝেই চলতে হবে। এই বছরের ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।”

তারেক রহমানকে ঘিরে চলমান নানা সমালোচনার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারে নামবেন না। তাহলে আপনাদের নিজের ওপরই অনেক কিছু নেমে আসবে। বুক-পিঠ বলে আপনাদের কিছু নেই। জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় যেসব ইসলামি দল রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে, আজ তারাই বিএনপিকে টার্গেট করেছে।”

ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইসলামের নাম নিয়ে কারা সুবিধাবাদী কাজ করছে তা জনগণ জানে। ইউটিউব আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে যারা আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছে, তাদের চেনা হয়ে গেছে।”

তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, “এসব উসকানিতে পা দেবেন না। এখন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সময়।”

সম্প্রতি ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শুধু দল থেকে বহিষ্কার নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে, তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আর সেই ভিত্তিতেই জুলাই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তেমনি শহীদ পরিবারের প্রতি এক প্রতীকী দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ বলেও উপস্থিত জনতা মন্তব্য করেন।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *