“বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কি হবে, নাকি শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন থেকেই যাবে অপূর্ণ?”

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই—রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে এক বছর। পরিবার বলছে, যে স্বপ্ন আর ন্যায্যতার জন্য প্রাণ দিলেন আবু সাঈদ, সেই স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি।

নিভৃত পল্লীর ছেলে আবু সাঈদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বইয়ের সাথে বন্ধুত্বে মগ্ন। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে উচ্চশিক্ষায় উঠে আসার লড়াই তাকে গড়ে তুলেছিল অন্যরকম দৃঢ়তায়। শান্ত স্বভাবের এই তরুণ ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী।

কিন্তু গত বছরের সেই দুপুর বদলে দেয় তার জীবন এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কারের দাবিতে যখন উত্তাল সারা দেশ, তখনই পুলিশের গুলিতে ঝরে যায় আবু সাঈদের প্রাণ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে নতুন শক্তি দেয় তার আত্মবলিদান।

আজ সেই ঘটনার এক বছর পূর্তি। পরিবারের গলায় এখনও চাপা কান্না। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বললেন, “আমার ছেলে কোটা আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়েছে। কোটা যেন বাংলাদেশে না থাকে। আর সুনির্দিষ্ট একটা সরকার গঠন হয়, সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারে, এটাই আমি চাই।”

ভাই রমজান আলী আবেগ জড়ানো কণ্ঠে বলেন, “বৈষম্য যদি বাংলাদেশে থাকে, তাহলে আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়ে কী পেলাম? আমি চাই, এমন স্বৈরশাসক যেন আর না আসে। আমার ভাই যে কারণে প্রাণ দিয়েছে, সেটা যেন এই বাংলাদেশে না থাকে।”

আবু সাঈদের বন্ধুরা বলছেন, “তিনি শুধু নিজেকে নয়, লাখো শিক্ষিত তরুণের স্বপ্ন দেখেছিলেন যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ গড়ার।”

এক বছর পার হলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—বাংলাদেশ কি আদৌ পৌঁছাবে সেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে, নাকি শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্নই থেকে যাবে অপূর্ণ?

এখন সবার চোখ ছাত্র-জনতার দিকে। কারণ, তাদের মতে, আবু সাঈদের মতো হাজারো তরুণের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে শেষ করতে হবে বৈষম্যমূলক সব রীতি আর প্রতিষ্ঠা করতে হবে প্রকৃত গণতন্ত্র।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *