অভিনেতা সিদ্দিককে ফের ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশানে ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী পারভেজ বেপারী হত্যার ঘটনায় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানকে ফের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিদ্দিকের উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন আদালতে এ তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট সিদ্দিককে মামলাটিতে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক সামিউল ইসলাম তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত শুনানির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিদ্দিক অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শাহজাদপুর সুবাস্তু নগরভ্যালির সামনে অবস্থান করে আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য অর্থের যোগান দেন। মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ২২৩ নম্বর আসামি এবং ঘটনাটির অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য, অর্থের উৎস ও পলাতক আসামিদের অবস্থান জানতে জিজ্ঞাসাবাদ অপরিহার্য।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন পারভেজ বেপারী। ওইদিন জুমার নামাজের পর আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গুলিতে গুরুতর আহত পারভেজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন নিহতের বাবা সবুজ মিয়া গুলশান থানায় মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে বেইলি রোড এলাকায় সিদ্দিককে আটক করা হয়। পরে তাকে রমনা থানা থেকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়, এটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড। অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থায়ন ও নেতৃত্বদানের অভিযোগ নতুন মোড় দিয়েছে তদন্তে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, তার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস, পরিকল্পনাকারীদের নাম এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।
এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্দোলনের প্রতি দমননীতির জটিল বাস্তবতাকেও উন্মোচন করছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *