সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সংগঠনটি জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
বিএফএর লিখিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা ভাতা একজন সন্তানের জন্য ২ হাজার এবং দুইজন সন্তানের জন্য ৪ হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা মাসে ৫ হাজার টাকা, টিফিন ভাতা ৩ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমান করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও প্রস্তাব দিয়েছে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ১০ শতাংশ এবং পেনশন ১০০ শতাংশ করার পাশাপাশি বন অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের জন্য ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কেউ আহত বা নিহত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বন বিভাগের ফরেস্টারদের প্রাপ্য বেতন গ্রেড (১০ম গ্রেড) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিএফএ বলেছে, দীর্ঘ বিরতি না দিয়ে প্রতি পাঁচ বছর পর পর পে কমিশন গঠন করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে চায়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে, যা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে, যা ডিসেম্বরের সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, গেজেট প্রকাশের পরই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
