বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আদালত অবমাননার নোটিশ

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

নোভারটিস বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মার কাছে হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিচারাধীন একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অমান্য করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ শীর্ষ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইকতান্দার হোসেন হাওলাদারের পক্ষে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড মো. শহীদুল ইসলাম এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন – বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের (এফইআইডি), ডেপুটি গভর্নর ও প্রধান কর্মকর্তা,বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এফইআইডির পরিচালক।

নোটিশে বলা হয়, তারা সবাই আপিল বিভাগে বিচারাধীন সিভিল মিসেলেনিয়াস পিটিশন (সি.এম.পি.) নং ৪৭৭/২০২৫ এর প্রেক্ষিতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন।

উল্লেখ্য, ইকতান্দার হোসেন হাওলাদার এর আগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৬০০২/২০২৫ গত ৩ জুন, ২০২৩ তারিখে খারিজ হয়। এরপর তিনি উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সি.এম.পি. নং ৪৭৭/২০২৫ দাখিল করেন, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়, এই বিচারাধীন অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল। গত ৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের সনদের একটি শারীরিক কপি হস্তান্তর করা হয়। একই দিনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমেও সেই সনদ পাঠানো হয়।

ওই ই-মেইলে শুধু মামলার বিচারাধীন অবস্থা নয়, বরং বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল যে, “বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক যেন কোনো মূল্যায়ন বা রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়।”

কিন্তু তারপরও গত ১৯ জুন, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইআইডি বিভাগ নোভারটিসের শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন করে। নোটিশে এই সিদ্ধান্তকে “আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা” এবং “বিচারাধীন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার প্রয়াস” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘গুরুতর ও সুস্পষ্ট অবমাননা’ এবং আদালত অবমাননা আইন, ২০১৩ ও সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা যৌথভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন।

প্রসঙ্গত, নোভারটিস বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মার কাছে হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা শুরু হয় অর্থ পাচারের অভিযোগ কেন্দ্র করে, যার তদন্ত ও বিচার এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পন্ন হয়নি।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *