আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবে একমত হয়েছে দেশের সব রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিয়ে সংবিধানে নতুন বিধান সংযোজনের প্রস্তাবেও ঐকমত্য হয়েছে।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের বারোতম দিনে এই ঐকমত্য হয়।
বৈঠক শেষে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আজকের বৈঠকে আলোচ্য তিনটি বিষয়ের মধ্যে দুটি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর একটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, আরেকটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিয়ে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন, এমন বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাবে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তবে কোনো দল বা জোট নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে, তারা আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুইজন বিচারপতির মধ্যে থেকে যেকোনো একজনকে নিয়োগের বিধান রাখতে পারবে। তবে শর্ত রয়েছে, অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চললে, তাকে প্রধান বিচারপতি করা যাবে না।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও জানান, জরুরি অবস্থা ঘোষণা-সংক্রান্ত সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদ সংশোধনে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগের’ পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর একক স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হবে। সেই বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা, বা তার অনুপস্থিতিতে উপনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও এসেছে। জরুরি অবস্থার মধ্যেও কোনো নাগরিকের জীবনের অধিকার বা বিচার এবং দণ্ড সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।
গত সাত জুলাইয়ের বৈঠকে জরুরি অবস্থা যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল বলেও জানান আলী রীয়াজ।
