চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ছয় দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বাংলাদেশ পেয়েছে উল্লেখযোগ্য সাড়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, এ সময় দেশে এসেছে ৫১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ১৬১ কোটি টাকার সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের ছয় দিনে প্রতিদিন গড়ে এসেছে ৮ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি ১ লাখ ৩৭ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। অন্যদিকে গত আগস্ট মাসে প্রতিদিন এসেছে ৮ কোটি ৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৬ ডলার। অর্থাৎ এ বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ছয় দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একাই সংগ্রহ করেছে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংগ্রহ করেছে ৩৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং প্রবাসী আয়ে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রবাসীদের এই আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও আশাবাদী যে, সেপ্টেম্বরে এই ধারা বজায় থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের অঙ্ক আরও বড় হবে। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাপও কিছুটা কমে আসবে।
