নাটোরের লালপুরে ইমো ও ম্যাসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে লালপুর উপজেলার দুরদুরিয়া ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অংশ নেয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অভিযানে প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৩৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেনা কর্মকর্তা বা পুলিশের উর্ধ্বতন পদে কর্মরত হিসেবে পরিচয় দিতেন। এভাবে তারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এছাড়া, তারা ইমো ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের একাধিক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ভুক্তভোগীদের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকাও আদায় করতেন।
গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর যৌথ বাহিনী বৃহস্পতিবার রাত থেকে অভিযান শুরু করে এবং ভোররাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের সোপর্দ করা হয়।
সাইবার অপরাধে জড়িত এই চক্রের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি, সহযোগী নেটওয়ার্ক ও অর্থ লেনদেনের উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে অচেনা নম্বর থেকে প্রাপ্ত কোনো কল, মেসেজ বা লিংকে সাড়া না দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা সেটিংস নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।
