জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে সরকার ব্যর্থ হবে : বিচারপতি ফরিদ আহমেদ

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে না পারলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হবে—এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেছেন,

যদি জুলাই সনদের কোনো আইনি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে এই সরকারের সকল সংস্কার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাবে, আর জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।

শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে “জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি : গণভোট ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. কোরবান আলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

বিচারপতি ফরিদ বলেন, পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে এক পরিবার থেকে একাধিক এমপি হওয়ার সুযোগ থাকবে না, এতে মনোনয়ন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক একচেটিয়াত্ব বন্ধ হবে। তার ভাষায়,

যে ব্যবস্থায় পরিবারের দুইজনকে এমপি বানানো হয়, সেই ব্যবস্থা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে—জনগণ এখন সেই পরিবর্তন চায়।

সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার এখন জুলাই সনদের বৈধতা নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি দাবি জানান, নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করে ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি দলের স্বার্থে কাজ করছেন, যা সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

আপনার চার-পাঁচজন উপদেষ্টা নির্দিষ্ট দলের প্রতি অনুগত—তাদের সরিয়ে দিন, না হলে আপনার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের সন্দেহ আরও বাড়বে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন না হলে তা হবে শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতিসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে।

সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না দেয়, তবে এটি কেবল এক টুকরো কাগজে পরিণত হবে। তার অভিযোগ, সরকার এখনও হাসিনার তৈরি সংবিধানের অধীনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বারবার কাটাছেঁড়া করে স্বৈরাচারী ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন,

এই সংবিধানের অধীনে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই।

জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের উপায় স্পষ্ট না করে, তবে এটি অর্থহীন হয়ে যাবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, সাবেক সচিব ড. মো. জাহেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সবাই একমত হন যে, জুলাই সনদকে কার্যকর আইনি ভিত্তি না দিলে তা ইতিহাসে আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করে সংস্কারকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *