চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান কর্মবিরতি ও পরিবহন সংকটে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। রপ্তানিযোগ্য প্রায় এক হাজারেরও বেশি কন্টেইনার বোঝাই না করেই ৬টি জাহাজ বন্দরের জেটি ছেড়ে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট শিডিউল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত থেকে রোববার (১৯ই অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জিসিবি, সিসিটি-১ ও ৩, এবং এনসিটি-২, ৩ ও ৫ নম্বর জেটি থেকে জাহাজগুলো ছেড়ে যায়। জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সপ্রেস লোতসে, এমএসসি কাভায়া-২, সোল রেসিলেন্স, ইন্টারেশিয়া ফরোয়ার্ড, আমালফাই বে এবং এমএসসি সাইজিং।
জাহাজগুলোতে মোট ১,০৬৫ কন্টেইনার পণ্য বোঝাই হওয়ার কথা ছিল, যা সিঙ্গাপুর, চীন, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানোর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পরিবহন বন্ধ থাকায় কন্টেইনারগুলো যথাসময়ে বন্দরে না পৌঁছানোয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ সময়সূচি বজায় রাখতে না পেরে খালি অবস্থায় বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির ফলে রপ্তানি খাতে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবসায়ীরা। কারণ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে “মাদার ভ্যাসেল”-এর নির্ধারিত সময়সূচি বিঘ্নিত হলে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় লাগবে।
অন্যদিকে, বন্দর মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারি যানবাহনের মালিকেরা দুই দিন ধরে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন। একই সঙ্গে রোববার সকাল থেকে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছে সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
একজন বন্দর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো চট্টগ্রামকে এড়িয়ে অন্য বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট শিডিউল নির্ধারণ করতে পারে। এতে দেশের বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন্দর কার্যক্রমে এমন বিঘ্ন শুধু তাৎক্ষণিক নয়, বরং দেশের রপ্তানি খাতের সুনাম ও সময়নিষ্ঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে বৈশ্বিক পর্যায়ে।
