দক্ষিণ লেবাননের ব্লিদা শহরে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে এক পৌর কর্মী নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার গভীর রাতে ড্রোন ও সাঁজোয়া যান নিয়ে ইসরাইলি সেনারা শহরটিতে প্রবেশ করে স্থানীয় পৌরসভা ভবনে অভিযান চালায়। সেখানে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান পৌর কর্মী ইব্রাহিম সালামেহ।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, অভিযানটি ‘হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসের’ অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। তবে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি যে ভবনটি হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ঘটনাস্থলে গুলি চালানোর সময় সালামেহ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কিনা, তাও নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনায় লেবাননে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত বছর নভেম্বর মাসে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ইসরাইলি বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ এই অভিযানের পর লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ সীমান্তে যেকোনো ইসরাইলি আগ্রাসন প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন,
ইসরাইলের এই হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি আঘাত।
ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০শে অক্টোবর) সকালে ব্লিদা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং সরকারের প্রতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার দাবি জানান।
দক্ষিণ সীমান্তে ইতোমধ্যে সেনা টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলমান এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে, এবং লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে নতুন করে সহিংসতার ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে চলেছে।
