মহান বিজয় দিবসে দেশের জন্য যেমন আনন্দের দিন, তেমনি ছয়টি পরিবারের জন্য ফিরে পাওয়ার দিন। অধিক আয়ের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনের প্রলোভনে ভারতে পাচার হওয়া নারী ও শিশুসহ ছয় বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতের দিকে তারা ভারতের চেন্নাই থেকে ঢাকায় পৌঁছান। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা, ভয় ও মানবেতর জীবনের পর দেশের মাটিতে পা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তারা।
ফেরত আসা ছয়জনই খুলনার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু রয়েছে। বাকি দুজন আলাদাভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় দালালচক্র বেশি টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য করে। ভারতে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—পুরুষদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং নারীদের বাধ্য করা হয় অসামাজিক কাজে।
দেশে ফিরে আবেগাপ্লুত ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা যেমন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন, তেমনি এখনও সীমান্তের ওপারে আটকে থাকা অসংখ্য বাংলাদেশির কথা ভেবে শঙ্কিত। তাদের প্রত্যাশা—সরকারি উদ্যোগ ও তৎপরতা বাড়িয়ে যেন পাচারের শিকারদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন হাজারো বাংলাদেশি এখনও ভারতে আটকে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সহযোগিতা জোরদার হলে তাদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন অনেক সহজ হবে।
