হাদি হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডি

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

3 Min Read

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এসব হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের আলামত মিলেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে এই লেনদেনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী অর্থ পাচার সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটির নানা দিক নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার পরপরই ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে, সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয় এবং ঘাতকের ব্যবহৃত গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইয়ের তথ্য গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইডি। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেকবইয়ে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্তভাবে লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব রেকর্ডের সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেন স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই অর্থ মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনো গ্রেফতার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিআইডি আরও জানায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এই অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না, পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কারা ভূমিকা রেখেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে সিআইডির একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। মূলহোতাকে গ্রেফতার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *