ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ইসলামের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবরটি একটি প্রচার কৌশলও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ফয়সালের সর্বশেষ অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্নভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অতিরিক্ত আইজিপি জানান, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। সে কারণে ফয়সালের অবস্থান নিয়ে সব সম্ভাবনাই মাথায় রেখে তদন্ত এগোচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে মূল অভিযুক্তের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়। হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা যাচাই করে ধাপে ধাপে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হাদিকে গুলি করতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে গ্রেফতার আব্দুল হান্নানকে আদালত জামিন দিয়েছেন। অন্যদিকে, ফয়সাল ইসলামকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার সিবিয়ন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পলাতক আসামিকে গ্রেফতার এবং পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
