মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ও ইসরাইল—উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্টে’ রাখা হয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি সক্রিয় এবং সম্ভাব্য যে কোনো হামলার কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মৌসাভি এক নিরাপত্তা বৈঠকে বলেন,
“ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় এখন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও শক্তিশালী।”
তিনি আরও দাবি করেন, ওই সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসরাইলও তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তার প্রতিক্রিয়া সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আসতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের একাংশের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বরং সময়ের ব্যাপার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে হামলার ধরন, সময়সূচি কিংবা পরিসর নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
ইসরাইল মনে করছে, যেকোনো সামরিক অভিযানের আগে ওয়াশিংটন তাদের আগাম অবহিত করবে, যাতে সম্ভাব্য ইরানি হামলার মুখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যায়। সে কারণে দেশটির বিমান বাহিনীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এদিকে উত্তেজনার এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় কর্মীদের সতর্ক থাকতে বা সীমিতভাবে সরে যেতে বলা হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আগের বছরের মতো বড় পরিসরে সেনা বা কর্মী প্রত্যাহারের কোনো দৃশ্যমান ইঙ্গিত এখনো দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও বড় সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি যে দ্রুত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—সে আশঙ্কাই এখন জোরালো।
