ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির এক নেতা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার যখন প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক ঘোষণা করছিলেন, তখন হঠাৎ দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দেন এনসিপির সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করে এসেছে। এমন দলের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
নাহিদুল ইসলাম সাজু দাবি করেন, যারা আওয়ামী লীগের সহযোগী বা দোসর হিসেবে পরিচিত, তাদের রাজশাহীতে ভোট করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে পুরো রাজশাহীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যের জবাবে বলেন, তফসিল ঘোষণার সময় এ ধরনের আপত্তি নির্বাচন কমিশনের কাছে তোলা যেত। এখন যদি লিখিতভাবে মতামত বা অভিযোগ দেওয়া হয়, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাভাবিক নিয়মে বাকি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
ঘটনাটি প্রতীক বরাদ্দের মতো একটি প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যেই ঘটায় সেখানে উপস্থিত প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
সবশেষে, প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে নির্বাচন ঠেকানোর হুমকি রাজশাহীর নির্বাচনী পরিবেশকে স্পষ্টভাবেই চাপে ফেলেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
