আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জারি করা কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব দিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের দুই প্রার্থী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পৃথকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে তারা এই জবাব দাখিল করেন।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম এবং বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে।
রোববার সকালে সারজিস আলম সশরীরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব জমা দেন। লিখিত জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ২৩ জানুয়ারির জনসভায় ব্যবহৃত ব্যানার ও তোরণ স্থানীয় সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল, এতে তার প্রত্যক্ষ অনুমোদন ছিল না। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পেজ সংক্রান্ত তথ্য দাখিল না করার বিষয়ে তিনি জানান, এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং এতে বিধি লঙ্ঘনের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি জবাবের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে, বিকেলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে তার নির্বাচনী এজেন্ট শোকজের জবাব দাখিল করেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসন একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তাদের দাবি, শোকজ নোটিশে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুল বোঝাবুঝি ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানারের নিচে অন্যান্য ব্যানার টানানো হয়েছিল, যা নিয়ে নেতাকর্মীরা সমান আইনের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আইন মেনেই প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই প্রার্থীর দাখিল করা জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
