দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও ইতালির প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন। আগামী ৩০ আগস্ট বাংলাদেশে পা রাখতে যাচ্ছেন ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তার এই সফরে মূল আলোচ্য বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বৈধতা ও নতুন অভিবাসন চুক্তি—যা অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় এক ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
এই সফর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউরোপের কোনো দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। ফলে কূটনৈতিকভাবে এটি তাৎপর্যপূর্ণ ও নজরকাড়া। সফরের দ্বিতীয় দিন, ৩১ আগস্ট জর্জিয়া মেলোনি সাক্ষাৎ করবেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে উঠে আসবে অভিবাসন নীতির আধুনিকীকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক একাধিক প্রস্তাব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতালি বর্তমানে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বৈধ শ্রমবাজারের জন্য ইতালি অন্যতম গন্তব্য। জর্জিয়া মেলোনির সফরে এই বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। ইতালি চাইছে, দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও প্রাধান্য দিতে।
সূত্র মতে, সফরকালে একটি নতুন অভিবাসন চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বৈধ ও সুশৃঙ্খল পথ তৈরি করা যায় এবং অবৈধ অভিবাসনের রুট বন্ধ করা যায়।
এর আগে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদি ঢাকায় এসেছিলেন। প্রায় ২৬ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছেন কোনো ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী। জর্জিয়া মেলোনি এই সফরের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা আবারও তৈরি করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্কের ইতিহাসে এ সফর নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে ইউরোপের ভেতরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিকে পুনরায় সংগঠিত করার প্রেক্ষাপটে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
অভিবাসনের পাশাপাশি, ইতালির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, পোশাক ও চামড়া খাতে যৌথ উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—সবকিছুই আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের জন্য ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সফর হতে যাচ্ছে এক ‘কৌশলগত কূটনৈতিক মাইলফলক’। অভিবাসন থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা—এই সফর হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দরজা উন্মোচনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
