গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ‘গণগ্রেফতার অভিযানে’ সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ এনেছে স্থানীয় বিএনপি। দলটির দাবি, এনসিপির সাম্প্রতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর, এলাকায় পুলিশের অভিযানে বহু নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রোববার বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন।
তিনি বলেন,
১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পর ওয়াবদার হাট এলাকায় পরিকল্পিতভাবে কিছু ব্যক্তি রাস্তা অবরোধ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। অথচ এই বিশৃঙ্খলার দায় এখন সাধারণ জনগণের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মহিউদ্দিনের দাবি, এই মামলার পর কোটালীপাড়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ পথচারীদেরও আটক করে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,
এটি স্রেফ দমন-পীড়নের কৌশল। কারও রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ নেই, যার যা নাম পাচ্ছে তাই মামলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি এভাবে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানি চালানো হয়, তাহলে কোটালীপাড়ার বিএনপি ও সাধারণ জনগণ মিলে এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে। প্রশাসনের দায় তখন তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।”
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে প্রশাসনিক ‘অতিসক্রিয়তা’ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে রুখতেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রশাসন থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনীতির মাঠে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কোটালীপাড়ায় এই গণগ্রেফতারের অভিযোগ নতুন করে বিরোধীদল ও সরকারের মধ্যকার দূরত্ব বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
